দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। সবশেষ গেল সোমবার, প্রধান চার ধরণের জ্বালানি তেলে লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা।এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে একাধিক কারণ জানিয়েছে সরকার। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ভর্তুকির চাপকে।
এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে এই দাম বাড়ার পক্ষে একাধিক যুক্তি দিয়েছে সরকার। এসব যুক্তিকে কাকতালীয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, ভর্তুকি কমানোর প্রশ্নে আমদানিতে উচ্চহারে শুল্ককর আদায় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ভর্তুকির অর্থ ব্যয় নিয়েও সংশয় জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য বলছে, স্থানীয় বাজারে আমদানির সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ১৯৯৯- ২০০০ থেকে ২০১৩- ১৪ অর্থবছর পর্যন্ত ধারাবাহিক লোকসান গুনেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি। এই সময়ে লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। যার বিপরীতে সরকার বিপিসিকে ভর্তুকি দিয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
এরপর থেকেই মুনাফায় ফেরে বিপিসি। পরবর্তী এক দশকে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা নিট মুনাফা করে সংস্থাটি।তবে এর বড় অংশই জমা দিতে হয় সরকারি কোষাগারে।গত এক দশকে বিপিসির মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে সরকারের তহবিলে। আর বাকি অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য স্থায়ী আমানত বা এফডিআরে রাখা হয়। যার বড় অংশই গত ছয় মাসে ব্যবহার করা হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য বলছে, বর্তমানে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনে প্রায় ৩২ শতাংশ শুল্ক- কর আদায় করা হয়। অন্যান্য জ্বালানি তেলে এ হার আরও বেশি। তবে উচ্চহারে এই শুল্ক- কর আরোপ করেও শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই বাড়তি মূল্য চাপানো হচ্ছে বলে জানালেন এই জ্বালানি বিশ্লেষক মনোয়ার মোস্তফা।
সরকারের দেয়া মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদ ও নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। পাশাপাশি, বাড়তি দামের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর যে যুক্তি দেয়া হচ্ছে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে নবম পে- স্কেল বাস্তবায়ন কিংবা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ভর্তুকি কমানোর চাপও ভূমিকা রাখতে পারে। ভোক্তা চাপ রক্ষার্থে ধীরে ধীরে সমন্বয়ের তাগিদও দেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, আমদানি ব্যয় এবং দেশের শুল্ক- কর কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে জ্বালানি খাতে সরকারের আর্থিক চাপ।এসব চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ফের দাম বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানান অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
কে